
নিজস্ব প্রতিবেক ||
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নদীতে অবৈধ জালবিরোধী অভিযানে যাওয়ার পথে মৎস্য অফিসের অভিযানিক দলের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মৎস্য বিভাগ।
গত শনিবার, ২৫ এপ্রিল মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি। মামলায় পৌর কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসেন গাজীসহ জ্ঞাত ১৩ জন ও অজ্ঞাতনামা ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার স্টিমারঘাট নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে লঞ্চঘাট-পাতারহাট প্রধান সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, নদীতে অবৈধ জালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল্লাহ আল সিয়াম, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নাজিম ও শামীম মোটরসাইকেলে স্পিডবোট ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। স্টিমারঘাটের বালুর স্তূপের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১৫-২০ জনের একটি দল চলন্ত মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টসহ তিনজন আহত হন। এর মধ্যে সিয়াম ও শামীমের অবস্থা গুরুতর ছিল।
গুরুতর আহত ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুল্লাহ আল সিয়াম বলেন, “দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধভাবে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। মাথা, ঘাড় ও হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছি। অন্ধকার ও অতর্কিত হামলার কারণে কাউকে চিনতে পারিনি।
আহত শ্রমিক নাজিম বলেন, “আমি সিয়ামের সঙ্গেই বাইকে ছিলাম। হঠাৎ হামলায় হাতে-পায়ে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোয় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আলমগীর সরদারকে চিনতে পেরেছি। তার নেতৃত্বেই ১৫-২০ জন এই হামলা চালায়।”
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় পথচারীরা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, “সিয়াম, নাজিম ও শামীম নামে তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। সিয়াম ও শামীম বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তারা এখন শঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করেছি। কিন্তু এজাহার হওয়ার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মমিন উদ্দিন বলেন, “মৎস্য অফিসের অভিযানিক টিমের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়ে তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Leave a Reply