নলছিটিতে পিআইও আওলাদের বিরুদ্ধে চার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ
প্রকাশিত :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট চারটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (০৫ এপ্রিল) ডাকযোগে এ অভিযোগ পাঠানো হয়, যা স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন বিভিন্ন মাধ্যমে মিডিয়া ম্যানেজ করার চেষ্টা শুরু করেছেন। বিভিন্ন
মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
অভিযোগপত্রটি পাঠানো হয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক এবং নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট। অভিযোগে নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব, অনিয়ম এবং সরকারি নীতিমালা উপেক্ষার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পে যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। প্রকল্প নির্বাচন, বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে তথ্য গোপন এবং প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহে অনীহা প্রকাশের মাধ্যমে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আওতায় আবেদন করেন। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন সেই আবেদন গ্রহণ না করে তা রিসিভ করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি গত ২৯ মার্চ ডাকযোগে পাঠানো আবেদনও গ্রহণ না করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানের মাটি ভরাট সংক্রান্ত একটি টিআর প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অজুহাতে এক অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নলছিটিতে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রিকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, “সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও জনস্বার্থ রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকবে। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি আমার জানা নেই।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মমিন উদ্দিন এর মুঠোফোনে নাম্বারে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply