নিজস্ব প্রতিবেদক।। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মইনুল ইসলাম। এরপর থেকে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের আত্মীয় পরিচয় দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে হাসান মামুন দাবি করেছেন, মইনুল ইসলাম নামে তার কোনো সরকারি চাকরিজীবী আত্মীয় নেই।
অভিযোগ রয়েছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ব্যবস্থা না থাকলেও মইনুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর অফিস কক্ষকে নতুনভাবে সাজিয়ে সেখানে এসি স্থাপন করেন।
এদিকে উপজেলার ২০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি হিসেবে জনপ্রতি ১২০ টাকা আদায় করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে বিরল ঘটনা।
পাশাপাশি সিলেবাস তৈরির জন্য জনপ্রতি আরও ২০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নিলামের নামে শতাধিক স্কুল ভবন ভেঙে বিক্রি এবং বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই হাজার হাজার গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ২০৮টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে স্লিপ বাবদ অর্থ গ্রহণ, টিটিডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুদাম থেকে সরকারি বই বিক্রি এবং শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অধিদপ্তর থেকে অনুমোদিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের অর্থ ছাড় করতে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে ভোটকেন্দ্র সংস্কারের জন্য প্রায় ৪৫টি প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কোথাও কেন্দ্র না থাকলেও বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে সরকারিভাবে এসি দেওয়া হয় না। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে পারেন। ভবন ভাঙা ও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম নিলাম কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা, যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান থাকেন। লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান বলেন, কিছু বিদ্যালয়ের ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব নয়। নিলাম কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কার্যক্রম আইনসিদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং পূর্বেও এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, অফিসে ব্যবহৃত এসি ব্যক্তিগত অর্থে স্থাপন করা হয়েছে। গাছ কাটা ও ভবন বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, মৃত গাছ কাটতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হয় না। সংশ্লিষ্ট তথ্য নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় তিনি সাংবাদিককে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


