স্টাফ রিপোর্টার // বরিশাল নগরীর আগড়পুর রোড এলাকায় অবস্থিত আইকন মেডিকেল সার্ভিসের প্রকৃত মালিকের দায়ের করা প্রতারণা ও আত্মসাৎ মামলায় কথিত পরিচালক বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই নাসিমের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার বাদী বিনয় ভূষণ হালদারের অভিযোগ, আইকন মেডিকেল সার্ভিস প্রতিষ্ঠার সময় মোট বিনিয়োগের তিন ভাগের দুই ভাগ অর্থ তিনি প্রদান করেন। সম্পর্কে মামা-ভাগিনা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব তিনি তার ভাগিনা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের ওপর অর্পণ করেন। কিন্তু সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ করেন বিশ্বজিৎ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেন বিশ্বজিৎ। পরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব চান বিনয় ভূষণ হালদার। কিন্তু বিশ্বজিৎ বিভিন্ন অজুহাতে হিসাব দিতে টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে বিশ্বজিৎ তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বিনয় ভূষণ হালদার আদালতে প্রতারণা ও আত্মসাৎ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তের দায়িত্ব বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানাকে প্রদান করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে থানায় উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।
থানার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি গ্রহণ করা হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে আটক করা হয়।
মামলার বাদী বিনয় ভূষণ হালদার বলেন, “বিশ্বজিৎ আমার কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। সে আমার ভাগিনা হওয়ায় বিশ্বাস করে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। এমনকি আমাকে হত্যা করার হুমকিও দিয়েছে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুবায়ের বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল-মামুন উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টির পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত গ্রহণ করবেন।”


