নিজস্ব প্রতিবেদক
রুপাতলী বাস টার্মিনালে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, সমিতিটি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে বাস শ্রমিকদের দ্বারা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য গত জুলাই-আগস্টের পর থেকেই অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এর চেয়েও বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত ব্যক্তিদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বরিশাল বিভাগীয় সদর দপ্তরে অবস্থিত দুটি বাস টার্মিনালে কোথাও চাঁদাবাজি হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে দায়িত্বরত প্রশাসনের কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। রুপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল-খুলনা, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, ঝালকাঠী, বাগেরহাট ও রুপসাসহ বিভিন্ন রুটে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল-কুয়াকাটা, বরগুনা, বাউফল, দশমিনা, আমতলী, তালতলী, পটুয়াখালী, বাকেরগঞ্জ ও নিয়ামতি রুটে বিভিন্ন জেলা মালিক সমিতির প্রায় পাঁচ শতাধিক বাস নিয়মিত চলাচল করছে। অথচ কোনো সমিতির গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই।
তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বিষয়টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ঝালকাঠী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির একটি গাড়ি ট্রিপ শেষ করে রুপাতলী বাস টার্মিনালে যাত্রী নামানোর সময় অবৈধ অটো-ট্যাম্পু শ্রমিকদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঝালকাঠীর শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকে জড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে সমিতির কোনো মালিক বা শ্রমিক সদস্য জড়িত ছিল না বলে দাবি করা হয়।
পরে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, ঝালকাঠী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয় এবং ৯ মার্চ থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতেও উভয় সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সুষ্ঠভাবে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠী আন্তঃউপজেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান এবং ঝালকাঠী বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান তাপু।


