নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠি–২ (ঝালকাঠি ও নলছিটি) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতীতের সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেওয়া উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন কামনা করেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম। তিনি বলেন, তার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সেবার মধ্য দিয়েই তিনি রাজনীতিকে অর্থবহ করতে চান।
সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম জানান, ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি ঝালকাঠি ও নলছিটি অঞ্চলে গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছেন। নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঝালকাঠি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য টিন সরবরাহ করেছেন। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ফিরিয়ে আনতে ৪৭৩টি অসহায় পরিবারকে দুধের গরু প্রদান করেছেন। এছাড়া ৫৪টি দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকেও আলাদাভাবে দুধের গরু দিয়ে সহায়তা করেছেন।
শিক্ষার প্রসারে তার নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম চালু হওয়ার আগেই তিনি প্রায় প্রতিটি হাইস্কুলে নিজ উদ্যোগে বই সরবরাহ করেছেন। গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মাসিক স্টাইপেন্ড চালু করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুম, টিউবওয়েল ও ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করেছেন-কখনো নিজ অর্থে, কখনো সরকারি বরাদ্দে।
স্বাস্থ্যসেবাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অসহায় মানুষের জন্য ডাক্তার নিয়োগ করে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। যেসব রোগীর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সম্ভব হয়নি, তাদের ঢাকায় এনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করেছেন। এভাবে পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা এখনও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাবলম্বী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের বিনাসুদে ব্যবসার পুঁজি দিয়েছেন। প্রায় ৪৮০টি রিকশা-ভ্যান বিতরণ করেছেন, যাতে তারা নিজস্ব আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। শীত মৌসুমে হাজার হাজার মানুষকে শীতবস্ত্র, লুঙ্গি, কম্বল ও যাকাত দিয়েছেন। প্রতি বছর রমজান ও কোরবানির সময় হাজার হাজার মানুষের মাঝে চাল, ডাল, আলু, ছোলা, চিনি, খেজুর, সেমাই ও মাংসসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আসছেন।
নিজ অর্থায়নে প্রায় ২৭৮টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দিরে অনুদান ও শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রাপ্ত সম্মানীর পুরো অর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
২০০৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রতিটি গ্রামে গরিব, অসহায় ও বিধবাদের তালিকা করে সরকারি সুবিধাবঞ্চিত প্রায় এক হাজার পরিবারকে মাসিক ভাতা চালু করেন। চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে শত শত মামলার সালিশ নিষ্পত্তি করেছেন এবং নৈশপ্রহরী ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতিমুক্ত ভূমিকা রেখে বিচার বিভাগের প্রশংসা অর্জন করেছেন। পাঁচ বছর দুই মাস দায়িত্ব পালনকালে সরকারি টাকায় এক কাপ চাও পান করেননি। বরং নিজ অর্থে উপজেলা চত্বরে আগত শত শত মানুষকে খাবার পরিবেশন করেছেন। কোনো দুর্নীতি, জুলুম, মামলা-হয়রানি বা অনাচারের আশ্রয় নেননি বলেও তিনি দাবি করেন।
সেলিম বলেন, একটি আধুনিক হাসপাতাল গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিম ঝালকাঠি যুব উন্নয়ন সংলগ্ন ১৪০ শতাংশ জমি কিনে ভবনের নিচতলা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে কলেজ নির্মাণ করা হয়। সুযোগ পেলে আবার হাসপাতাল নির্মাণ করে অসহায় মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘ সময় নলছিটিতে তার প্রবেশে বাধা ছিল, যা ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বলবৎ ছিল। তবুও তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে থেকেছেন এবং সেই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
নির্বাচিত হলে তার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- নলছিটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা চালু, নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, গুরুতর রোগীদের ঢাকায় বা প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা, গরিব শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, প্রতিটি স্কুলে মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বেকার যুবকদের বিনাসুদে ঋণ, রিকশা-ভ্যান ও ছোট ব্যবসায় সহায়তা, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ, নিয়মিত গরিব ভাতা এবং বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা।
এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দিরে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি বন্ধ করা এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
নলছিটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করে সেলিম বলেন, আমি দূরের এমপি হতে চাই না, আপনাদের পাশে থাকা সেবক হতে চাই। আমি কোনো নতুন মুখ নই, আমার জীবন ও কাজ আপনাদের সামনে খোলা বই। আপনারা যদি মনে করেন আমি সৎ, আপনাদেরই লোক এবং মানুষের জন্য কাজ করি, তাহলে একবার সুযোগ দিন।
তিনি আরও বলেন, আমি রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের হক আদায়ের জন্য। মানুষের সেবা করলেই আল্লাহ সন্তুষ্ট হন-এই বিশ্বাস থেকেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের কর্মকাণ্ড, সততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল্যায়ন করে ঝালকাঠি-নলছিটির জনগণ তাকে সমর্থন দেবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকবে।


