
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বরিশালে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলায় ফয়সাল আলমকে ১৪০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী জুলাই আন্দোলনের কর্মী জহির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা করেছিলেন ফয়সাল আলম। আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগেই তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে দাবি বাদীপক্ষের।
এদিকে ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের একাধিক সূত্র। ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন ঠিকাদার জানান, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে বরিশালে বদলি হয়ে আসার পরও গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
গণপূর্ত বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, মডেল মসজিদ, দুদক ভবন ও আনসার ভবনসহ কয়েকটি সরকারি প্রকল্পে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাতিল হওয়া কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগের নামে পুনরায় কাজ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, টেন্ডারের শর্ত উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হতো। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের অভিযোগ, তথ্য দিতে অনীহা এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তার। অন্যদিকে কিছু সাংবাদিককে প্রভাবিত করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
ফয়সাল আলমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি প্রকাশ্যে নৌকার ব্যাজ ব্যবহার করতেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি বরিশাল ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) নবগঠিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। বাদীপক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক : মোঃ রাকিবুল হাছান(ফয়সাল রাকিব)
আর এম মিডিয়া লিঃ