ইউসুফ আলী সৈকত, মেহেন্দিগঞ্জ ৷৷
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ক্লাসে অনুপস্থিতি ও পড়া না পারার অজুহাতে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে শাসনের নাম’ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন উপজেলার ১৩ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নতুন চর তেতুলিয়া গ্রামের পূর্ব আশা আমিন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
ভুক্তভোগী ও অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, সর্বশেষ গত বুধবার, ২২ এপ্রিল দুপুরে এক ছাত্রীকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে হয়রানি করা হয়। এর আগেও একই কায়দায় আরও দুই ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানায়, “স্যার বলেন ক্লাসে আসো নাই কেন? এই বলেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে বুকে ও নাভিতে হাত দেন।
আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় ডাস্টার দিয়ে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন প্রধান শিক্ষক।
এক ছাত্রীর মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে বুকে হাত দিয়েছেন। আরেক ছাত্রীকে ডাস্টার মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ওরা পড়া না পারায় থাপ্পড় দিয়ে শাসন করেছি। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি জামায়াত ইসলামের একজন সমর্থক।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঘটনাটি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে জানাব।”
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) মুঠোফোনে বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সম্পাদক : মোঃ রাকিবুল হাছান(ফয়সাল রাকিব)
আর এম মিডিয়া লিঃ