মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি // ভোজনরসিক মানুষের কাছে মিষ্টি মানেই উৎসবের আমেজ। কিন্তু মেহেন্দিগঞ্জে এই মিষ্টিই এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পৌরসভা অফিস সংলগ্ন ‘নিউ সাতক্ষীরা দধিঘর’-এ মিষ্টি বিক্রির যে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে, তাতে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে—আমরা কি মিষ্টির নামে বিষ খাচ্ছি? অব্যবস্থাপনার চরম সীমা: মশা, মাছি ও কুকুরের আনাগোনা সরেজমিনে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা অফিস সংলগ্ন ওই দধিঘরে গিয়ে দেখা যায়, চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও দই প্রদর্শন করা হচ্ছে। দোকানের শো-কেস বা মিষ্টির ট্রেগুলোতে কোনো ঢাকনা নেই। ঝাকে ঝাকে নীল মাছি ও মশা মিষ্টির ওপর বসে জীবাণু ছড়াচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, দোকানের মেঝে ও আশপাশে অবাধে কুকুরের বিচরণ দেখা গেছে, যা থেকে ছড়ানো জীবাণু সরাসরি খাদ্যপণ্যে মিশছে। দোকানের পরিবেশ যেন এক প্রকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এই অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে মেহেন্দিগঞ্জের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পেটের পীড়া, ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিউ সাতক্ষীরা দধিঘরের মিষ্টি খেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন শিশু ও বয়স্ক মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পচা-বাসি এবং জীবাণুযুক্ত খাবার থেকেই এই অসুস্থতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও জনরোষ পৌরসভা অফিসের একদম পাশেই এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাবারের দোকানে এমন নোংরা পরিবেশ থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ এক ক্রেতা জানান: "মিষ্টির ওপর মাছি আর নিচে কুকুরের দৌড়াদৌড়ি দেখে ঘেন্নায় খাওয়ার রুচি চলে যায়। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এরা মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে, অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।" সতর্কতা জরুরি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে কেনা খাবার দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ মানুষকে এই দোকানটি থেকে খাবার কেনায় সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্পাদক : মোঃ রাকিবুল হাছন(ফয়সাল রাকিব)
Copyright © 2024 dailysattyasangbad.com . All rights reserved.